• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ছাড়া ভবিষ্যৎ কল্পনাই করা যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৪ এ.এম.
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-ছবি-ভিওডি বাংলা

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই, আর এই বাস্তবতা উপেক্ষা করলে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়বে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটাই খুব দ্রুত বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী যে গতিতে বদলাচ্ছে, সেই গতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পারলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, তা এখনই ভাবতে হবে।”

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দৌড়ে অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো বহু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি-চিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াই এই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। আইসিটিকে ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি বারবার এই খাতের কথা বলছি, কারণ-ভবিষ্যৎ এই খাতের হাত ধরেই গড়ে উঠবে।”

ড. ইউনূস বলেন, দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকবে, তবে প্রযুক্তি খাতই হবে চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি হবে হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো-যা প্রতিটি খাতকে স্পর্শ করবে এবং নতুনভাবে রূপ দেবে। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা প্রশাসন-সবখানেই প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে।”

এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইসিটি খাতের নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা ছাড়া এই খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এক্সপোর গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এখানে আমরা কী ধরনের আলোচনা করছি, কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করছি এবং সেই অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করছি-দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।”

প্রজন্মগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায় সহজাতভাবেই যুক্ত। ফলে পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি বড় দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা এক ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি করছে। তিনি বলেন, “বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না-এটা কোনো খারাপ উদ্দেশ্যের কারণে নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনার ধরন এক নয়।”

বাংলাদেশের আইসিটি খাতেও এখনো পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, “মানুষ সরকারের কাছে আসবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে যাবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ
ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা