• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০২ পি.এম.
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব

প্রবাসী আয় বাড়ার ফলে দেশে ডলারের জোগান বেড়েছে, আর এ কারণে বাজারে উদ্বৃত্ত ডলারের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জোগান-চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই কেনাকাটায় ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট এবং কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

এ পর্যন্ত চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪.১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের মূল্য ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ফলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা না থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ডলারের দাম কমার কথা। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ উদ্যোগে ডলার কেনাকাটা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রমজানকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকটে বেড়েছে মুরগির দাম
রমজানকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকটে বেড়েছে মুরগির দাম
রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়াল এনবিআর
হাইকোর্ট: রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়াল এনবিআর
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর