জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে নতুন মাইলফলক, শীর্ষে সৌদি আরব

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হয়েছে জানুয়ারি মাসে। সদ্য সমাপ্ত এই মাসে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। দীর্ঘদিন ধরেই রেমিট্যান্স আয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা সৌদি আরব এবারও প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষ দশ দেশে কারা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ২৮ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। ইউরোপের দেশ ইতালি থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ ওমান থেকে এসেছে ১৮ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এছাড়া কুয়েত থেকে জানুয়ারিতে পাঠানো হয়েছে ১৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ১৪ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং কাতার থেকে এসেছে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এসব তথ্য প্রবাসী আয়ের উৎস বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিদের অবদানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের চিত্র
রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকিং খাতের অবদানও উল্লেখযোগ্য। জানুয়ারি মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪০ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এই খাত দিয়ে জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ২২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। অপরদিকে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের বড় অংশ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল ও দ্রুত ব্যাংকিং সেবা রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
আগের মাসগুলোর তুলনায় অবস্থান
জানুয়ারির রেমিট্যান্স পরিমাণ ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও এটি এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয়।
এর আগে গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। অক্টোবর মাসে এই অঙ্ক ছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বর মাসে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল স্থিতিশীল। আগস্ট মাসে দেশে আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাই মাসে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও সম্ভাবনা
অর্থনীতিবিদদের মতে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, মুদ্রাবাজারে চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে অর্জিত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এই অঙ্ক আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







