ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ১৮০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬৬ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
সারা দেশে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর অনেক স্থানে ইতোমধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণনার জন্য ব্যালট বাক্স নিয়ে যেতে দেখ গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়।
দেশের দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে।
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রের নতুন পথযাত্রার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি। বহু বছর পর শঙ্কামুক্ত ভোটদানের প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে গেছেন লাখো তরুণ, যুবক ও প্রবীণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে ‘একতরফা’, ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের অভিযোগ ছিল, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে তা হবে যেমন গণতন্ত্র উত্তরণের প্রথম ধাপ, তেমনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা।
গত ১১ ডিসেম্বের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি দুয়ারে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের সঙ্গে এই ব্যবস্থাপনায় ভোট দিতে পারছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এবার ২৯৯টি আসনে দল, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। পুরো নির্বাচনে হাজারখানেক ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি করছে ইসি। ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। বিভিন্ন দলের ৬৩ জনসহ নারী প্রার্থী আছেন ৮৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আবার ২০ নারী লড়াইয়ে রয়েছেন।
৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটদানের সুযোগ পাবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ পুরুষ, ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২। ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে ইসি। ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণের জন্য ৬৯ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। এছাড়া ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৮ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এ জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬; দেশের ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা কালো রঙের, অন্যদিকে গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের। প্রথমে এই রঙের ব্যালট পেপার আলাদা করা হবে। এরপরে আলাদা আলাদাভাবে গণনা করা হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







