ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ দাবি করেছেন, নিকোলাস মাদুরো এখনও দেশটির বৈধ রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধান। তার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি এবং সরকার সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি BBC–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী। তিনি নিজেকে একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইনের দৃষ্টিতেও মাদুরোই ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।
সাক্ষাৎকারে দেলসি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি- নিকোলাস মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি এই বক্তব্য দিচ্ছি একজন আইনজীবী হিসেবে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস-উভয়েই নির্দোষ। আমি যে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, সেটিও সংবিধানের বিধান মেনেই।”
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে কিছু সমঝোতা হয়েছে। তবে সেই সমঝোতা ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “রাষ্ট্রের নীতি ও কাঠামো এখনও সংবিধান অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে।”
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক প্রমাণিত তেল মজুদের একটি বড় অংশ ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত। পাশাপাশি দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের খনিও রয়েছে। এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।
মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর সময়েও সেই নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ বহাল থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শুরুতে কারাকাসে একটি সামরিক অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক আছেন বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি নিয়ে নতুন ঘোষণা আসে। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা নেবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও জানান, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগুয়েজ, যিনি আগে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতেই দ্রুত এই সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মারিয়া কোরিনা মাচাদো-এর প্রসঙ্গও তোলেন দেলসি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাকে নিয়ে দেলসি বলেন, দেশে ফিরে এলে তাকে জনগণের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
দেলসির ভাষ্যমতে, “তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তিনি ভেনেজুয়েলায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কেন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন।” এই ইস্যুগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সব চাপ ও সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো কার্যকর রয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সম্পদ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ভবিষ্যৎ গতিপথের দিকে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভিওডি বাংলা/জা







