ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
হাঁস কোলে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট পান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে ভোটের অভিজ্ঞতা ও প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ শেয়ার করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার অনেক হাঁস ছিল, মোরগ ছিল, কবুতর ছিল। আম্মুর বড় চাকরির কারণে আমরা বড় বাসায় থাকতাম। এরপর ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেলে হাঁস-পালার সুযোগটা মিলত না। কিন্তু এখানে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমার হাঁস-মুরগি আছে। ওদের সঙ্গেই আমার অবসর সময় কাটে। তাই এই স্মৃতি মনে রেখে হাঁসকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছি।”
তিনি তার জয়ের আনন্দের সঙ্গে স্বীকার করেন যে, বিএনপি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করা তার জন্য সহজ হয়নি। রুমিন বলেন, “আমার যাত্রা কঠিন ছিল। তবে আমার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছে আমাকে সমর্থন করা নেতারা। আজ যদি আমি জিততাম না, হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে যেতাম এবং আমার পেশায় ফিরে যেতাম। এই ১৭ বছরের মধ্যে আমার কর্মীরা এত কষ্ট করেছে, এত শ্রম দিয়েছে, ঘরে ঘুমাতে পারিনি। তাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি কীভাবে শোধ করব?”
নির্বাচনের সময় তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল দুপুরের পর বিভিন্ন জায়গায় ভোটের নকল ছাপানোর চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে আমি নিজে গিয়েও খেজুর গাছের কর্মীদের সঙ্গে মারামারি করেছি। বাঁধা সত্ত্বেও কেন্দ্রে ঢুকেছিলাম। ভোট পুনর্গণনা করেছি এবং কিছু ফলস ভোটও পেয়েছি। এগুলো সবই চ্যালেঞ্জ।”
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি দলীয় প্রার্থী নই। আমাকে যদি এলাকায় আবার নির্বাচন করতে হয়, কাজ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে টিকে রাখতে হলে কাজ করতেই হবে।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি তাকে ফেরাতে চাইলে তার নেতাকর্মীদেরও ফিরিয়ে আনতে হবে।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনের একদিন আগে, ১১ ফেব্রুয়ারি, বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সরাইল উপজেলা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ নেতাকে বিএনপি বহিষ্কার করেছিল।
রাজনীতির এই লড়াইয়ে জয়ী হয়ে রুমিন ফারহানা এখন তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জনের পথ ধরে চলার অঙ্গীকার করেছেন। ভোটের প্রতীক হাঁস কেবল তার ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে নয়, বরং তার রাজনৈতিক যাত্রার একটি পরিচায়ক হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







