‘আমাকে মেরে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে’: আখতার হোসেন

রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিজয়ী প্রার্থী ও আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা তাকে এবং তার সমর্থকদের হত্যার পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘যে কোনো সময় তারা আমার আসনের মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। আমাকেও হত্যা করতে পারে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে।’
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর টাউন হল এলাকার জুলাই চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এদিকে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলন করছেন। শনিবার দুপুরে কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুনর্গণনার দাবিতে সড়কে অগ্নিসংযোগ ও ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার লোকজন তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন ও পরদিন বিকেল পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে মাইকিং করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল ও সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়।
আখতার বলেন, ‘তারা চাইলে আইনগতভাবে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করতে পারে। কিন্তু তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, কাউনিয়া ও হারাগাছ এলাকায় তার দলকে সমর্থন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এনসিপির জেলা কমিটির নেতা সুমনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টাকা ও স্বর্ণ লুটপাট করা হয়েছে। প্রধান সমন্বয়কারী আরাফাতের বাড়িতে ভাঙচুর এবং জামায়াত কর্মী আব্দুল মমিনের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া হারাগাছে তার দলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও জানান।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি ভয় পাই না, জানের মায়াও করি না। কাউনিয়া ও পীরগাছাবাসীর ম্যান্ডেট রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পেশিশক্তির রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানানো হলেও জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশ কমিশনার কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ভিডিও প্রমাণ পাঠানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. মজিদ আলী, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
ভিওডি বাংলা/ আ







