• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইউরোপজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী ক্ষোভ, পণ্য বয়কটের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের কর্মসূচি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। খুচরা দোকানের কর্মী থেকে শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী ও রাজনীতিক—বিভিন্ন স্তরে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে এখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্টে আয়ারল্যান্ডের একটি উপকূলীয় শহরে এক সুপারমার্কেট কর্মী গাজা থেকে আসা ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখে প্রতিবাদে শামিল হন। তিনি ক্রেতাদের ইসরায়েল থেকে আমদানি করা কিছু ফল ও সবজি সম্পর্কে সতর্ক করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সরাসরি ইসরায়েলি পণ্য স্ক্যান ও বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান।

এর পর সুপারশপ চেইন টেসকো তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের সমর্থন এবং স্থানীয় বিক্ষোভের মুখে জানুয়ারি মাসে তাকে আবার কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার এই পদক্ষেপ স্থানীয় একটি বিরোধকে বৃহত্তর নৈতিক বিতর্কে পরিণত করে। এতে প্রশ্ন ওঠে—ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান কর্মক্ষেত্রে প্রতিরোধের রূপ নিতে পারে কি না।

আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন প্রস্তাব গ্রহণ করে বলেছে, কর্মীদের ইসরায়েলি পণ্য সামলাতে বাধ্য করা ঠিক নয়। যুক্তরাজ্যের খুচরা সমবায় কো-অপ ইউকে এবং ইতালির কপ আলিয়ানজা ৩.০ গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে কিছু ইসরায়েলি পণ্য তাদের তালিকা থেকে সরিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এই কৌশলের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ড্যানিস স্টোরের কর্মীরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের পণ্য বয়কট করেছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা সেই আন্দোলনের পর পশ্চিম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে।

২০০৫ সালে শুরু হওয়া বয়কট ও বিডিএস আন্দোলন আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, চার্চ, পেনশন তহবিল ও স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর ডাক দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। স্পেন ও স্লোভেনিয়া অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি এলাকা থেকে পণ্য আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে স্লোভেনিয়া সরকার ওই অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। স্পেনও একই বছরে ডিক্রি জারি করে অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ২০২৬ সালের শুরুতে কার্যকর হয়।

নেদারল্যান্ডস-এ ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী বিক্ষোভের পর দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা সরকারকে অবৈধ বসতি এলাকা থেকে আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে ২০১৮ সালে উত্থাপিত ‘অকুপাইড টেরিটোরিজ বিল’ আবার সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য নিষিদ্ধ হবে। যদিও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সর্বসম্মত সমর্থন থাকার পরও বিলটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

ভিওডি বাংলা/এমএস

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কি নতুন ভারসাম্যে ফিরবে?
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কি নতুন ভারসাম্যে ফিরবে?
রমজানে আল-আকসায় প্রবেশে কড়াকড়ির পরিকল্পনা ইসরায়েলের
রমজানে আল-আকসায় প্রবেশে কড়াকড়ির পরিকল্পনা ইসরায়েলের
নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩২
নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩২