আমি আজ বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি : প্রধান উপদেষ্টা

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “আমি আজ আমার কাজ থেকে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি। আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটি ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ।” প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
ড. ইউনূস বলেন, বিগত ১৮ মাসে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। “এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে উপস্থিত হয়েছি। ৫ আগস্টের সেই মহা মুক্তির দিনটি আজও মনে আছে। সেই আনন্দের দিনে দেশে-বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দৈত্যের গ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। কিন্তু দেশ তখন সম্পূর্ণ অচল। একে সচল করা ছিল আমাদের প্রথম কাজ,” তিনি স্মরণ করলেন।
ড. ইউনূস বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা সবাই পালিয়েছিল। বড় কর্তা, মাঝারি কর্তা, অনেকে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। সরকারের ভেতরে কাকে বিশ্বাস করা যায়, তা জানা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মৃতদেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধানও আমাদের সতর্ক রেখেছিল। এই অবস্থায় ১৮ মাস চলে গেছে, এবং অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা দেড় যুগ পর একটি জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র ঈদের মতো আনন্দ ছিল, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। যারা পরাজিত হয়েছেন, তাদেরকেও অভিনন্দন। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো হার-জিত। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারা জানতে পারেন, প্রায় অর্ধেক ভোটার তাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।”
ড. ইউনূসের এই ভাষণ দেশকে সচল করার সংগ্রাম, নির্বাচনের ইতিহাস, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/ আ







