• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এশিয়া ফার্মা এক্সপো: দেশের ওষুধ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

এস এম রাকিব    ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

রাজধানীতে শুরু হওয়া এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই আয়োজন দেশের ওষুধশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা আয়োজকদের। 

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর পূর্বাচল চায়না ফ্রেন্ডশীপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এই ফার্মা এক্সপোতে ৩২ টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

বিনিয়োগকারী এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ১৭তম প্রদর্শনীতে ওষুধ তৈরি শিল্প খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ করা হচ্ছে এবং ১৫০টির বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই প্রদর্শনী দেশের ওষুধ শিল্পে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। 

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, প্যাকেজিং প্রযুক্তি এবং গবেষণাভিত্তিক নতুন পণ্য প্রদর্শন করেছে। এর ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা সরাসরি বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনাও পাচ্ছেন তারা। 

অনুষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলেন, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত এখন একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র। তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ, দক্ষ জনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করছে। তারা মনে করছেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুললে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একাধিক বিদেশি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি এখান থেকে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফলে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা সহযোগিতা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। এই প্রদর্শনী সেই সুযোগ তৈরি করেছে। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং চুক্তির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি), রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স এবং গবেষণা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই প্রদর্শনী সেই সচেতনতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।

তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী ঘিরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি।  আয়োজকদের তথ্যমতে, একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।  তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বৈঠক চলছে, যেখানে প্রযুক্তি বিনিময়, উৎপাদন সহযোগিতা এবং বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নীতিগত জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা এখনো বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত বৈশ্বিক ফার্মা বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপস চুক্তির বিশেষ সুবিধা ভবিষ্যতে শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই এখন থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা আরও বলছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি এটি একটি নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।

সামগ্রিকভাবে এ প্রদর্শনী শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে বৈশ্বিক মানচিত্রে আরও সুসংহতভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং রপ্তানির নতুন সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে এই খাত আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
৫৫ বছরেও স্বাধীনতার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে: আবদুস সালাম
৫৫ বছরেও স্বাধীনতার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে: আবদুস সালাম
‘অতীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হতো’
‘অতীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হতো’
গুম-ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে আজ সংসদে : ডেপুটি স্পিকার
গুম-ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে আজ সংসদে : ডেপুটি স্পিকার