ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া

চলতি বছরের জুনে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত হবার পরই শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি। বিশেষ করে ফাইনালের টিকিটের মূল্য প্রকাশের পর অনেকে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ১১ জুন। এবারের টুর্নামেন্টের মহারণের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই। তবে মাঠের বসে সরাসরি খেলা দেখার জন্য গুনতে হবে বিপুল অঙ্কের টাকা।
ফিফা সূত্রে জানা গেছে, ফাইনালের ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের দাম প্রায় ১০,৯৯০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির টিকিটের দাম প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, আর তৃতীয় ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
শুধু ফাইনাল নয়, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, জার্মানি এবং আয়োজক মেক্সিকোর ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতি অনুযায়ী চাহিদার ভিত্তিতে টিকিটের দাম ওঠানামা করছে। অনেক সমর্থক এই নীতিকে সাধারণ মানুষের জন্য বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছে।
ফিফা সম্প্রতি গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টির টিকিট ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখনও নকআউট পর্বের টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি।
সমর্থকদের অসন্তোষের এক বড় কারণ হচ্ছে বিক্রির পদ্ধতি। লটারি এবং ‘ফার্স্ট-কাম-ফার্স্ট-সার্ভ’ পদ্ধতির কারণে বহু সমর্থক দীর্ঘ সময় অনলাইনে অপেক্ষা করেও টিকিট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।
অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ভুল কিউতে চলে যাওয়ায় বা সিস্টেম ত্রুটির কারণে, কিংবা সঠিক পেজে প্রবেশ করতে না পারার কারণে টিকিট নিতে পারেননি। এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লাস্ট-মিনিট সেলস ফেজ’-এর লিংকে ক্লিক করার পরও অনেকে নির্ধারিত পেজে ঢুকতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সমর্থক লিখেছেন, “এই দামে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশ্বকাপ দেখা সম্ভব নয়। এখন বিশ্বকাপ শুধু ধনীদের ইভেন্ট।”
অন্য একজন বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকিট পেলাম না। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল।”
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। সেই ম্যাচের টিকিটও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনা যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি টিকিটের মূল্য ও বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ কি ধীরে ধীরে সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
ফিফা জানিয়েছে, তারা চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করছে এবং চেষ্টা করা হচ্ছে যত বেশি মানুষ মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পেতে পারে। তবে সমর্থকদের মনে এখনও আক্ষেপ ও হতাশা রয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রতি আগ্রহের সঙ্গে এই বিতর্ক সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে উত্তেজনা, অন্যদিকে টিকিট সংকট। এতে বোঝা যাচ্ছে, খেলা দেখার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য সহজ নয়।
ভিওডি বাংলা/জা







