সৌদি আরবের জুবাইল তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী জুবাইলের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে গত রাতে শত্রুপক্ষের অপরাধ ও আগ্রাসনের জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রাতে ইরানের ওই স্থাপনায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কিছু আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে জুবাইলের সাদারা কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
২০ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পটি সৌদি আরামকো এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডাও-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। এছাড়া এক্সন মবিলের মালিকানাধীন একটি স্থাপনা এবং নিকটবর্তী জুয়াইমাহর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে জুয়াইমাহর ওই কারখানাটি শেভরন ফিলিপসের বলে ইরান দাবি করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে জুবাইল শিল্পনগরী থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। জুবাইল শহরটি মূলত সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যেখানে আরামকো ও সাবিক-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পশ্চিমা জ্বালানি জায়ান্টদের বিলিয়ন ডলারের যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে।
হামলার পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর কাছে পড়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে এই হামলার ঘটনা ঘটলো। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হবে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর একই ধরনের স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







