• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৬, বিএনপিরই ২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তিন মাসে দেশে কমপক্ষে ৬১০টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ ঘটেছে, যাতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৪০৭৮ জন আহত হয়েছে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি- এইচআরএসএস।   

শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সাক্ষরিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ৩৬ জনের মধ্যে বিএনপির ২৮ (৭৮ শতাংশ) জন, জামায়াতের ৪ (১১ শতাংশ) জন ও আওয়ামী লীগের ১ জন এবং অন্যান্য ৩ জন। ৬১০টি সহিংসতার ঘটনার ৫৭৩টিই (৯৪ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, বিভিন্ন দলের সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং দেশব্যাপী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। এ সকল হামলায় কমপক্ষে ২৯ জন আহত এবং বিএনপির ১২ জন, আওয়ামী লীগের ৪ জন, জামায়াতের ৩ জন ও অন্যান্য দলের ৩ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। 

এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়াও সারা দেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, নির্বাচনি সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রীক সাত শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  ’

এইচআরএসএস বলছে, ‘এই সামগ্রিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ অন্তত ৩০টি জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা কোথাও কোথাও অবস্থান নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে।

এর ফলে বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় পুনর্দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টা দখল, হামলা, ভাঙচুর ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলছে।’

সুপারিশ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি, ন্যায়বিচার, মানুষের সমান অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে বিচারক নিয়োগ, স্বাধীন বিচার সচিবালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণভোট আদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, স্বতন্ত্র সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুদক নিয়োগ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ অম্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারীকৃত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ চলতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাতিল করা হয়েছে যা পাশ করা জরুরি ছিল।

ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিক-সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগ জরুরি: আবদুস সালাম
মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিক-সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগ জরুরি: আবদুস সালাম
হায়দার আলী স্কুল কলেজে ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ ও ভবন উদ্বোধন
হায়দার আলী স্কুল কলেজে ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ ও ভবন উদ্বোধন
এখন হেলিকপ্টারে ঘোরার দিন নেই, পদত্যাগ করব কেন?
এখন হেলিকপ্টারে ঘোরার দিন নেই, পদত্যাগ করব কেন?