জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও ১২ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কঞ্চিবাড়ী ও ছাপরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জলাতঙ্কে মৃতরা হলেন—কঞ্চিবাড়ী গ্রামের মোছা. সুলতানা বেগম (৫০), বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নন্দ রানী (৫৫), কঞ্চিবাড়ী গ্রামের ফুলু মিয়া (৫৫), আফরোজা বেগম (৫০) এবং পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটী এলাকার রতনেশ্বর কুমার (৫৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর কঞ্চিবাড়ী ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে একাধিক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে সংগ্রহ করেন। তবে সঠিক সময়ে (২৪ ঘণ্টার মধ্যে) ভ্যাকসিন নিতে না পারায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাজার, রাস্তা ও আবাসিক এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের কারণে প্রায়ই মানুষ আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান সুলতানা বেগম। এর আগে আমার ইউনিয়নে জলাতঙ্কে তিনজন মারা গেছেন।
ছাপরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক গোস্বামী বলেন, ৮ মে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে রতনেশ্বর কুমারের মৃত্যু হয়। তিনি ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। তবে কুকুরে কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারেননি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, গত তিন বছরে উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকা বরাদ্দ আসেনি। তবে পোষা কুকুরের জন্য সীমিত পরিমাণ ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে।
জলাতঙ্ক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহীদুল্লাহ্ সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে স্টোরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কাজ চলছে। তবে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে এসব কর্মীরা ঠিক কী ভূমিকা পালন করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন,‘সাংবাদিকদের যন্ত্রণায় অফিসই করব না।’ এরপর তিনি তড়িঘড়ি করে অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







