• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইরান যুদ্ধে ৩৯টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ মে ২০২৬, ১১:২৬ পি.এম.
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৩৯টি বিমান হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক প্রতিবেদনের বরাতে মঙ্গলবার সিনেটে একটি বিশেষ কমিটির শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস এ তথ্য জানান।

শুনানিতে এই সিনেটর পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্টকে জিজ্ঞাসা করেন, “মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে আমরা প্রায় ৩৯টি বিমান হারিয়েছি এবং এটি প্রায় এক মাস আগের একটি পুরনো প্রতিবেদন। পেন্টাগন এই সমস্ত বিমানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যুদ্ধের মোট ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে কিনা?”

দ্য ওয়ার জোন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এতে ৩৯টি বিমান পুরোপরি ধ্বংস এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার ভেতরে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ যুদ্ধবিমানও আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়েছে।

তবে শুনানির সময় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কথিত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

এদিকে শুনানিতে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্ট মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে, যা গত মাসের শেষের দিকে দেওয়া হিসাবের তুলনায় ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাস্ট আরও জানান, যুদ্ধের এই খরচ মূলত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে সীমিত, এর মধ্যে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়াও হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতির খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। 

অন্যদিকে সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের ভান্ডারের একটি বড় অংশ নিঃশেষ করে ফেলেছে। এরমধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছিল—যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লক্ষ ডলারেরও বেশি। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নির্মিত প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে, যা তাদের মজুদে থাকা মোট সংখ্যার কাছাকাছি।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান যুদ্ধ ১ হাজারেরও বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। ফলে এসব অস্ত্রের মজুতও উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলেও এই সংখ্যা আসল চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণত একাধিকবার আঘাত করা হয়।

দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে, অর্থাৎ দিনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের মজুত পূরণের ফলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের খরচের হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’- এর হিসেব অনুযায়ী আজ বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৭৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে। 

বিস্তারিত হিসাবে ওয়েবসাইটটি জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সেকেন্ডে ১১ হাজার ৫৭৪ ডলার, প্রতি ঘণ্টায় ৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ ডলার এবং প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।

ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার আরও বলছে, এই হিসাবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি খরচ যেমন যুদ্ধ থেকে ফেরত আসা সেনাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত নয়।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রাশিয়ার ‘শয়তান-২’ মিসাইল ছোড়ায় আতঙ্কে পশ্চিমা বিশ্ব!
রাশিয়ার ‘শয়তান-২’ মিসাইল ছোড়ায় আতঙ্কে পশ্চিমা বিশ্ব!
ট্রাম্পের চীন সফরের খবরে কমল তেলের দাম
ট্রাম্পের চীন সফরের খবরে কমল তেলের দাম
আস্থাভোটেও থালাপতির বিজয়
আস্থাভোটেও থালাপতির বিজয়