বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলে কঠোর অবস্থান ডিএসসিসির

নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ট্রেড লাইসেন্স ও রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নগরভবন অডিটরিয়ামে বিদুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ট্রেড লাইসেন্স সহ সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি নিজস্ব মালিকানাধীন মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও মার্কেট কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ঠিকাদাররা তা সংগ্রহ করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্কেটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অবৈধ দোকান বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কেট ও দোকানের সামনে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা বা দোকান বসতে দেওয়া যাবে না। অনুমতি ছাড়া দোকান বসলে তা উচ্ছেদ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ দোকান থেকেই অপরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য সমস্যা তৈরি হয়। তাই এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো বর্জ্য না ফেললে বা না সরালে নোটিশ ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রেড লাইসেন্স প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অনেক মার্কেটে এখনো বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স নেই। মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলে ১০ থেকে ২০ বছরের বকেয়া হিসাব করে ফি ও জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। তাই ব্যবসায়ীদের দ্রুত লাইসেন্স হালনাগাদ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত বড় সাইনবোর্ড ব্যবহৃত হলে তার করও যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।
মার্কেটের প্যাসেজ ও চলাচলের পথ দখল করে দোকান বসানোর বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা এবং সিটি করপোরেশনের প্রাপ্য রাজস্ব নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, বকেয়া কর পরিশোধে বর্তমানে সারচার্জ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







