• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১১ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন। এরও আগে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৪ মে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করেছেন, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তারা ইনুর খালাস চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও ইনুর ওপর বর্তায় বলে প্রসিকিউশন যুক্তি দিয়েছে।

শুনানির সময় প্রসিকিউশন আদালতে শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড উপস্থাপন করেন, যেখানে জাসদ সভাপতি গণআন্দোলনকে জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে দমনের কথা বলেছেন।

তবে আসামিপক্ষ বলেছে, ওই কথোপকথনের কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ করা বা নির্যাতনের নির্দেশ কিংবা তেমন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য নেই। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে ইনু আন্দোলন দমনে গুলি বা নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন, উসকানি দিয়েছেন কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছেন।

মামলাটিতে গত ১ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ দাখিল করে। সেদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হন। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হাইকোর্ট
হাইকোর্টে একদিনে ৩৪০৯ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি
ছবি: সংগৃহীত
খালাস পেলেন আরিফুল-বাবর-গউছ
ছবি: সংগৃহীত
৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের