• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পি.এম.
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ছবি: ভিওডি বাংলা
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ছবি: ভিওডি বাংলা

দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে সপ্তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

এবারের ব্যাচে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানান, সরকারের এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত আয় করছেন বলেও জানানো হয়।

সরকারি হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাংলাদেশি মুদ্রায় আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটির বেশি টাকায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাস ও সহায়ক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব কাজের সুযোগ তৈরি করতেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সপ্তম ব্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এবার লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৪ হাজার ৮০০ জনকে নির্বাচন করা হয়।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমার্ধ শেষে মেক্সিকো ২-০ ইকুয়েডর
এমবাপ্পের জোড়া গোল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স
ব্রাজিলের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার ইনজুরি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল