• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জামায়াতের জোটে যোগ

ক্ষমা চাইলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৭ পি.এম.
এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সংগৃহীত ছবি

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়াকে  কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে ব্যর্থতা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দল ব্যর্থ হয়েছে স্বীকার করে মঞ্জু বলেন,
“একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। নির্বাচনী রাজনীতির বাস্তবতায় আমাদের একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই।”

এ সময় উপস্থিতদের কাছে তার ক্ষমা গ্রহণযোগ্য কি না জানতে চাইলে সমস্বরে ‘না’ ধ্বনি ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ক্ষমা চাইলে তা গ্রহণ করা উচিত, কিন্তু ক্ষমা না করার প্রবণতা এখন নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ না দিলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে এই সিদ্ধান্তের দায়ের ৬০ শতাংশ এবি পার্টিই বহন করছে, বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে দোষারোপ না করার কথাও জানান।

অনুষ্ঠানে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন—কেন এবি পার্টি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো? জবাবে মঞ্জু বলেন, ছোট দল হিসেবে তাদের সেই সক্ষমতা ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এককভাবে পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

দলের নেতাকর্মীদের হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা নিয়মিত অপমান ও বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই কটাক্ষ করে বলেন, সব মিলিয়েও কি দলটি ১০০ ভোট পাবে? এমনকি দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাসনিম জারার উদাহরণ টেনে মঞ্জু বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। জারার নিজস্ব সামাজিক ও মিডিয়া সমর্থন থাকলেও তিনি এক শতাংশ সমর্থনও নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এ ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও এককভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবি পার্টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিলে শরিক দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ইতোমধ্যে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

ভিওডি বাংলা/ এমএস/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম