• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা:

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬ এ.এম.
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মুহাম্মদ ইউনূস-ছবি-ভিওডি বাংলা

১২ ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য সাধারণ একটি মানদণ্ড (বেঞ্চমার্ক) হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে অধ্যাপক ইউনূস এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো থেকেও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। জনগণের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।”

এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান-এর সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সেই বিবেচনায় ঢাকা ইতোমধ্যে আসিয়ান-এর ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি গত ১৮ মাস ধরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান অধ্যাপক ইউনূস। পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগগুলো আরও এগিয়ে নেবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই শুল্ক আরও কমানো সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, এই মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন, তাদের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গত ১৮ মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নবঘোষিত শ্রম আইনের সংস্কারকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন দূত।

বৈঠকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

সূত্র: বাসস

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী