ডিএসসিসি প্রশাসক
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা এখন আর শুধু সরকারি উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনসচেতনতা ছাড়া ঢাকা শহরসহ কোনো নগরীই টেকসইভাবে বাসযোগ্য রাখা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার ১৮ জুন রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোটার্স কাউন্সিল এর উদ্যোগে পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও মৌসুমী ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি উদ্যোগ। তিনি বলেন, পরিবেশকে অবহেলা করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে এ বাস্তবতা এখনই উপলব্ধি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের শিক্ষিত ও বিত্তবান শ্রেণির পরিবেশ সচেতনতা আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি অংশ এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। বরং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাধার ভরাটের কারণে ঢাকা শহরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী খোলা জায়গা, মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা রাখার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শহর ক্রমেই কংক্রিটের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এখন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বিভিন্ন রোগবালাইও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক ঝুঁকিও বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আবদুস সালাম আরও বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তালগাছের মতো প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কমে যাওয়াও পরিবেশ বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ।
তিনি জানান, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং জনগণ এগিয়ে এলে আরও ২৫ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব।
ছাদ কৃষিকে উৎসাহিত করতে উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ছাদ কৃষিতে সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি এ কার্যক্রমে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সচেতনতা শেখানো জরুরি ছিল, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। একসময় শিক্ষাব্যবস্থায় এসব বিষয় গুরুত্ব পেত।
আবদুস সালাম আরও বলেন, প্রযুক্তির উন্নতি হলেও নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যানজট, দুর্গন্ধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কোনো একক সরকারের নয়; এটি সবার সম্মিলিত ব্যর্থতার ফল।
নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেরা সচেতন না হই, তাহলে কেউ আমাদের পরিবর্তন করতে পারবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধও কমে গেছে, যা নগর সমস্যাকে আরও জটিল করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার কারণে শহরগুলো পরিচ্ছন্ন থাকে। সেই তুলনায় আমাদেরও একই ধরনের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।
ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কলকাতার উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা থাকলে ঢাকা শহরও বদলানো সম্ভব।
সবশেষে তিনি বলেন, হকার, যানবাহন ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস







