• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাতক্ষীরা ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৯ এ.এম.
সুন্দরবন ও ভোমরা স্থলবন্দরের কারণে জাতীয় গুরুত্ব বাড়ায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে সরকার-ফাইল ছবি

পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন সম্ভাবনা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় বিশেষ বিবেচনায় সাতক্ষীরাকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। নিকারের সেই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলার জন্য প্রযোজ্য সুবিধা অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জনবল নিয়োগ, দপ্তর পুনর্বিন্যাস এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে জনবল সংকট অনেকাংশে কমবে এবং প্রশাসনিক সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিকারে প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ সুন্দরবন জড়িত। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ভোমরা স্থলবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সংযুক্ত হওয়ায় জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়েছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে সাতক্ষীরাকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সাতক্ষীরা কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভোমরা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২০ সালের ৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের জেলাগুলোর শ্রেণি বা ক্যাটাগরি হালনাগাদ করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেই পরিপত্র অনুযায়ী, ৮টি বা তার বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা থাকা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং পাঁচটির কম উপজেলা থাকা জেলাকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অবস্থানগত ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু জেলাকে ‘বিশেষ ক্যাটাগরি’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জেলার শ্রেণি অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্ট জেলায় সরকারি দপ্তরগুলোর জনবল কাঠামো নির্ধারণ করে থাকে। এ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ এবং ত্রাণ সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রেও জেলা ক্যাটাগরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২০ সালের সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ‘বিশেষ ক্যাটাগরি’র জেলা ছিল ৬টি, ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা ২৬টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা ২৬টি এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির জেলা ছিল ৬টি। এবার সাতক্ষীরাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করায় দেশে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৭টিতে এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলার সংখ্যা কমে হলো ২৫টি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উন্নীতকরণের ফলে সাতক্ষীরার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং জেলার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী