পশ্চিমবঙ্গ ভোটে ঢাকার টাকা! নজরদারিতে শিল্পগোষ্ঠী

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা ভারতে গেছে—এমন তথ্য দুই দেশের গোয়েন্দা নথিতে উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কারা এই অর্থ পাঠিয়েছে কিংবা ভারতের কোন রাজনৈতিক শক্তির কাছে তা পৌঁছেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নীরবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভারতের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং সেই সূত্রেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশি অর্থ ব্যবহারের বিষয়টিও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
গোপন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঢাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গে অর্থ পাচারের বিষয়টি নজরে আসে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা তদারকিতে থাকা একটি বিশেষ ইউনিট এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিলে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৩ মে) ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা স্বরূপনগরের তারালি থেকে ৯ লক্ষ বাংলাদেশি টাকাসহ ইলিয়াছ নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিএসএফ। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিন এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলিয়াস গাজী নামে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তল্লাশির সময় মোটরসাইকেলের সিটের নিচে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে ১৪৩ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন তাকে স্বরূপনগর থানায় হস্তান্তর করে। একই দিন তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। ইলিয়াসের বাড়ি তারালি এলাকাতেই।
ঘটনার পর তদন্তে কয়েকটি দিককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের কাছে পৌঁছেছে কিনা এবং তার বড় অংশ অদৃশ্য রয়ে গেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, জুলাই অভ্যুত্থানে বিতাড়িত দলটির ভারতে অবস্থানরত নেতাদের মাধ্যমে অথবা তাদের সহায়তায় নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঢাকার একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইলিয়াসের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পুরো অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রা হওয়ায় তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল বা শিল্পপতি এই অর্থের সঙ্গে জড়িত—তা জানতে তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস






