জাতীয় নির্বাচন-গণভোট:
আগামী ৩০ বছরের রাষ্ট্র কাঠামো নির্ধারণের ঐতিহাসিক সুযোগ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং আগামী ২০–৩০ বছরের রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলাম রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “এই নির্বাচন ও এর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের মাধ্যমে ঠিক হবে বাংলাদেশ আগামী দুই-তিন দশকে কোন পথে এগোবে। সংবিধানে কী ধরনের মৌলিক সংস্কার আসবে, তার রূপরেখা এ থেকেই নির্ধারিত হবে। জনগণের রায়ই রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।”
তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ গণভোটে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের পথ সুগম হবে। এটা কোনো একটি দলের স্বার্থ নয়। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে এবং ক্ষমতার জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোও এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি সরকারকে ভেতর থেকে দেখেছি। কেন বাংলাদেশে দুর্নীতি হয় এবং কোথায় গলদ রয়েছে-সেগুলো আমার জানা। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির মূলোৎপাটন, দখলদারিত্ব ও বৈষম্য দূর করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পেলে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।”
নিজেকে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১১ আসনের অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “দেশের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণভোটে স্পষ্ট রায়ের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এজন্য ১১ দলীয় ঐক্যের জন্য দেশের মানুষের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।”
তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র বর্তমান সরকার নয়, বরং আগামী কয়েক দশকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে লেখা হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







