নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দিলো ইরান

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ইরানে নারীদের জন্য মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্সের পথ খুলে দিয়েছে সরকার। বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, এখন থেকে নারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে দুই চাকার যান চালানোর জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন।
এর আগে ইরানের আইনে নারীদের মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানো সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এই অস্পষ্টতার কারণে দুর্ঘটনার ঘটনায় অনেক সময় নারীরাই দায়ের মুখে পড়তেন।
ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার নারীদের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। দেশটির বার্তা সংস্থা ইলনা জানায়, সড়ক আইন স্পষ্ট করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত জানুয়ারির শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।
ইলনার তথ্যমতে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। একই সঙ্গে পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ করে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হবে।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়, যা কঠোর অভিযান চালিয়ে দমন করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের আশপাশে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রেখেছে।
তেহরান কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সরকারের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পথচারী।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা নানা সামাজিক বিধিনিষেধের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে পোশাকবিধি দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। জনসমক্ষে স্কার্ফ পরা এবং শালীন, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এসব বিধি অমান্য করছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর মোটরসাইকেলে নারীদের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে তারা অধিক স্বাধীনতার দাবি তোলেন।
সূত্র: এএফপি।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য