• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার নাহিদ ইসলামের

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ পি.এম.
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। িফাইল ছবি
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। িফাইল ছবি

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর গত ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্তের মূল ভিত্তিই ছিল বৈষম্য। এই বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর অনিবার্য পরিণতিতেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরোনো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়; বরং রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা, আইনের প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সুযোগ বণ্টনের প্রতিটি স্তরে তা গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীই কেবল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে। বিপরীতে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী শ্রেণি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত থেকেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিশ্রুতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক আনুগত্যই হয়ে ওঠে চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার প্রধান শর্ত। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা রাজনীতিক, আমলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটি চক্র রাষ্ট্রীয় সম্পদ, ব্যাংক ব্যবস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এর ফলে একদিকে সীমিত গোষ্ঠীর সম্পদ ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ জীবনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেই হিমশিম খেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিকল্পিতভাবে ঢাকাকেন্দ্রিক করা হয়েছে। রাজধানী ও তার আশপাশে বসবাসকারী প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য বড় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা হলেও গ্রাম, মফস্বল শহর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন উপেক্ষিত থেকেছে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীকেন্দ্রিক একটি ক্ষুদ্র ধনী শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা অসৎ উপায়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। প্রকৃত উন্নয়ন হলে তা দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়নের জন্য পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ—সব প্রতিষ্ঠান দলীয় স্বার্থে নিয়োজিত ছিল। জুলাই বিপ্লবের পর এই কাঠামো ভেঙে পড়লেও এর সুবিধাভোগীরা আবারও পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ভয়াবহ বিপর্যয়। এনসিপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, লুটপাটকারীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে বাংলাদেশ একটি নতজানু পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে আবদ্ধ ছিল, যার ফলে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় এলে ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপির লক্ষ্য একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা—যেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে, বিচারব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি ছিল বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি গণবিদ্রোহ। এই গণবিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

ভিওডি বাংলা/ আরিফ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)
চরমোনাই পীর সংস্কার ও বিচারের দাবি পূরণ না হলে জুলাইয়ের উৎসর্গিত রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি হবে
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের বৈঠক
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের বৈঠক
ছাত্রদলের লোগো
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি