• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভয়কে পেছনে রেখে ভোটকেন্দ্রে যান: প্রধান উপদেষ্টা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৮ পি.এম.
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। ছবি: বিটিভির লাইভ থেকে নেওয়া।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভয়কে পেছনে রেখে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। তিনি বলেন, একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠনের পথে এগিয়ে নেবে। এই ভোট প্রমাণ করবে—বাংলাদেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনগণের কণ্ঠ আর কখনো হারাতে দেবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। 

ভাষণের শুরুতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশ এক ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাত্র একদিন পর সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আগের যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ জন্য তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তবে নির্বাচন ঘিরে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এটি কেবল আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; বরং গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, একই সঙ্গে দেশ কোন পথে এগোবে—বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের দিকে, নাকি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে—সে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাইকে গণতন্ত্রের স্বার্থে তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে না পারা এই প্রজন্মের জন্য এবারের নির্বাচন একটি নতুন সূচনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নারীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় এসেছে। তরুণদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভিওডি বাংলা/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল