• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ফিরছেন না গণঅধিকারে, বিএনপিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাশেদ খানের

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক রঙ পরিবর্তন করে নতুন দিশা নেন রাশেদ খান। দীর্ঘ সময় গণঅধিকার পরিষদ–এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এ। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হবে।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর অঞ্চল অংশ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন রাশেদ খান। যদিও বিজয়ী হননি, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আর গণঅধিকার পরিষদ–এ ফিরবেন না। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে মন্তব্য করব না। আমি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই। এটিই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” তিনি যোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, জয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব। তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে আসনটি দখল করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পান ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। রাশেদ খান নিজে পান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।

রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি যৌথভাবে আসন বণ্টন ও সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে গণঅধিকার পরিষদে থাকাকালীন সময়ে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার পক্ষে কাজ করেছেন। তার মতে, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনেকাংশে মিলিত, তাই বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এখন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে, ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান রাশেদ খান। এটি স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ-৪ আসনটি তাকে দেওয়ার বিষয়ে কিছু স্থানীয় বিএনপি নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাদের মধ্যে একাংশ প্রতিবাদ মিছিলও করেন। এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, “দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এবং যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তারা ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত।”

রাশেদ খান আরও জানান, নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থন তার সঙ্গে ছিল। যদিও তিনি এখনও বিএনপির কোনো কমিটিতে নিয়মিত পদে নেই, তবুও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করার জন্য তার যে কোনো জায়গায় কার্যক্রম চালানোর অধিকার আছে। নিজ জেলা ঝিনাইদহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে চান।

রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও লক্ষ্যও যুক্ত রয়েছে। রাশেদ খান স্পষ্ট করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। এটি তার রাজনৈতিক কৌশল ও লক্ষ্য, যা জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

ফলে দেখা যাচ্ছে, ঝিনাইদহ-৪ আসনের ফলাফলের পরেও রাশেদ খানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত। তিনি আরও জানান, তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে। গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও দলটির কর্মকাণ্ডে তিনি আর অংশ নেবেন না।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম