• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ওষুধ সংকটে রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিক

রাজশাহী প্রতিনিধি    ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৬ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। হাতের নাগালে চিকিৎসা সেবা পেয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক হয়ে উঠেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আস্থার প্রতিক। কিন্ত সাম্প্রতিক সময়ে ওষুধ সংকটে পড়েছে রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা, ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ক্লিনিকে এসে সময়মতো ওষুধ না পেয়ে হয়রানির শিকার হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেক রোগী।

সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কয়েক মাস আগেও বিনামূল্যে জ্বর, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথাসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো রাজশাহীর এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে। কিন্তু বর্তমানে জ্বর, পাতলা পায়খানা ও হাঁচি-কাশি এবং এন্টিবায়েটিকের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ আছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে চিকিৎসকেরা। এখন দেয়া হচ্ছে ২২ প্রকার ওষুধ, তাও সরবরাহ অনিয়মিত বলে জানিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা।

তারা জানান তাদের কমিউনিটি ক্লিনিকে শেষ ঔষুধ এসেছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। তখন ৩ কার্টুন ওষুধ সরবারহ করা হয়েছিল, যা দিয়ে প্রায় তিনমাস চালানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ছয়মাস পার হয়ে গেলেও এখানো ঔষুধ সরবরাহ আসেনি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের মধূসুদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের লাইন। কাছে গিয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করতেই তারা জানান, কয়েকমাস আগেও এখান থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সেইরকমভাবে আর ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। মধূসুদনপুর গ্রামের তহমিনা বেগম বলেন, বাড়ির পাশে আমাদের এই কমিউনিটি ক্লিনিকে আমরা ভালোই চিকিৎসা সেবা পায়। আগে আমাদের কোন অসুখ হলে এখান থেকেই ওষুধ দেওয়া হতো, প্রয়োজন হলে বাইরের ফামের্সী থেকে দুএকটা ওষুধ কিনতে হতো। আর এখন প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

ওষুধ সংকটের কথা জানতে চাইলে মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম বলেন, ‘আমাদের এই কমিউনিটি ক্লিনিকে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্তমানে ক্লিনিকে ওষুধের সরবরাহ কম এইজন্য আগের তুলনায় রোগী কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পাচ্ছি না সেইজন্য আমরা রোগিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারছি না।’

জানা গেছে, শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। কিন্তু ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় অনেক সেবা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীরা। ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচে শহর থেকে সংগ্রহ করছে প্রয়োজনীয় ওষুধ।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া বলেন, ‘প্রায় ২ মাস থেকে আমাদের ক্লিনিকে কোন ওষুধ সরবরাহ নেই। আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের সংখ্যাও জিরো। আমরা কোন রোগীকে ঔষুধ দিতে পারছি না। শুধু আমার এখানে না, গোটা মোহনপুর থানাতেই একই অবস্থা। আমরা চাই অতিদ্রুত সময়ের ভিতরে ঔষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হোক।’

বাগমরা উপজেলার দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন ,‘আমাদের বাগমারা উপজেলাতে ৩৮ টি সিসি রয়েছে, যার সবগুলোতেই ওষুধ সংকট। আমরা শেষ ওষুধ পেয়েছিলাম আগস্ট মাসে। তারপর থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের এখানে যতগুলো রোগী চিকিৎসা নিতে আসে তার বেশিরভাগই গরিব ও অসহায়। আমরা চাই অতিদ্রুত সময়ের ভিতরে আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হোক।’

শুধু পবা, মোহনপুর আর বাগমারা নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজশাহীর প্রায় সব উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেই ওষুধের সংকট। তৃণমূলের সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে এইসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি সংশ্লিষ্ট সকলের।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডাঃ এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ওষুধ সরবরাহের সংকট কয়েকমাস থেকেই। অন্তবর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন সময় থেকেই তারা নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি। তবে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি আগামী ২ সপ্তাহের ভিতরেই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। আশা করছি তখন সংকট কেটে যাবে।

ভিওডি বাংলা/ রমজান আলী/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছাড়া পেলেন কুমিল্লার সেই বিএনপি নেতা
ছাড়া পেলেন কুমিল্লার সেই বিএনপি নেতা
ময়মনসিংহে সড়কে ঝরল ৩ প্রাণ
ময়মনসিংহে সড়কে ঝরল ৩ প্রাণ
মুন্সীগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার