সিরিয়া থেকে ধাপে ধাপে সব সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় অবস্থানরত নিজেদের সব সেনা ধাপে ধাপে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি খালি করে তা সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত সপ্তাহেই ওই ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো মূলত এক যুগ আগে জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান মোকাবিলায় গড়ে তোলা হয়েছিল।
২০১৪ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে তথাকথিত খেলাফত রাষ্ট্র ঘোষণা করে। সে সময় আইএস দমনে আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয় এবং এর অংশ হিসেবে সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
আইএসের উত্থানের পরপরই সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার সেনা পাঠায় ওয়াশিংটন। সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন ঘাঁটিতে আনুমানিক ১ হাজার মার্কিন সেনা দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবশিষ্ট সেনাদেরও পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ–এর আমলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল। তখন আইএসের বিস্তার ঠেকাতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই মোতায়েন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএস এখনো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত। তবে আগের তুলনায় তাদের কার্যক্রম ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো নতুন হুমকির জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত থাকবে, তবে সিরিয়ায় স্থায়ী সেনা উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা এখন কমে এসেছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে স্থিতিশীল এবং স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার ও ঘাঁটি হস্তান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/জা







