• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
দেশের স্বার্থ বিপন্ন হলে জামায়াত দাঁড়াবে জনগণের পক্ষে: ডা. শফিকুর ৪৪তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৪১৩৬ জন কারও চাঁদাবাজি করার আর সুযোগ নেই: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে শোকজ অন্তর্বর্তী সরকারের বৈদেশিক চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন জরুরি: দেবপ্রিয় ‘সংবিধান সংস্কার না হলে বদল আসবে না’: নাহিদ ইসলাম ২৯৭ বিজয়ীর মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী অষ্টমবার পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল জনপ্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ইশতেহার বাস্তবায়ন চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোজার বাজার চড়া :

বেগুনের দাম দ্বিগুন, লেবু এবারও হয়নি কাবু

রেজাউল করিম হীরা    ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪১ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

প্রতিবছর রোজার মাস এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। রোজার আগের দিন থেকেই বাজার চড়া।  বিশেষ করে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, খেজুর, মুরগি, মাংস ও ফলের দাম লাগামহীন বেড়েছে। 

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারদের। আর পাইকাররা ক্ষোভ ঝাড়ছেন আমদানিকারকদের ওপর।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ রমজান এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি। এর পেছনে অতি মুনাফালোভী একটি সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় রয়েছে। বাজার তদারকি জোরদার না হলে এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর  কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার, পলাশী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে পণ্যের দামে তারতম্য থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সর্বত্রই স্পষ্ট। 

গত বছরের মতো এবারও ভোক্তার কাবুতে আসেনি লেবু। সেই সুযোগে লেবুর দামও চড়া। বাজারে সাইজভেদে লেবু প্রতি হালি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। বেগুনের দামও দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজিও ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পালাশী বাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ বলেন, ‘আড়তেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যার কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা এবং খুচরায় ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের বাজারেও চাপ রয়েছে। ছোলার দামও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ছোলা ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দানার মসুর ডাল কেজিতে ১৬০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১০০ টাকা ও মাঝারি দানার মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

রমজানে মুরগির চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কেজি মানভেদে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কেজি এক হাজার ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম বেড়ে গেছে। এখন খামারি পর্যায়ে মুরগির দাম চড়া।

দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এবারও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে খুচরা বাজারে খেজুরের দাম বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে গত দুই সপ্তাহে জাত ও মানভেদে বেশ কিছু খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে বর্তমান শুল্কের ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও দাম কমেনি, বরং কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘এবার খেজুরের দাম কিছুটা বাড়লেও গত বছরের তুলনায় কম আছে। আর পাইকারির চেয়ে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দাম বাড়াচ্ছেন। গত বছরের চেয়ে এবার যে শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে, সেটা মাত্র ২ শতাংশ বেশি। কিন্তু বাজার গত বছরের চেয়ে অনেক কম রয়েছে।’

রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন  ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বরই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেডজুল এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা ও মেডজুল জাম্বু খেজুর এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, আজওয়া খেজুর মানভেদে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা, ছোট সাইজের আজওয়া খেজুর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মরিয়ম এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছড়া খেজুর মানভেদে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

রমজান ঘিরে ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজন প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। মাঝারি সাইজের আনারস প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ফলের দাম আগে থেকেই চড়া ছিল। রোজাকে ঘিরে আরো বেড়েছে। আপেল ও মাল্টার মতো আমদানিনির্ভর ফলের কেজিপ্রতি ৪০-৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। মাল্টা কেজিপ্রতি ৩২০–৩৬০ টাকা এবং আপেল ৩৬০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/ আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
আর পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলবে না : অর্থমন্ত্রী
আর পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলবে না : অর্থমন্ত্রী
রমজানে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি দাবি: এবি পার্টি
রমজানে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি দাবি: এবি পার্টি