গড়গড়িয়া লেক সংস্কার ঘিরে মধুপুরের আদিবাসীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি বনাঞ্চলের ‘গড় গড়ািয়া’ লেক সংস্কারের নামে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত/প্রথাগত ও আবাদি ভূমি দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত ‘মধুপুর গড়াঞ্চলের সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের জলছত্র-পঁচিশমাইল বাজারে গারো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা কর্মসূচিতে যোগ দেন।
জিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল'র সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল বার সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য এডভোকেট জন জেত্রা।
এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাটিউ চিরান, জিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম, মধুপুর কোচ আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ বর্মন প্রমুখ।
মানববন্ধনে আদিবাসী নেতারা বলেন- গড় গড়ািয়া লেক এবং এর আশেপাশের ভূমি আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। সংস্কারের নামে এই পরিবেশ এবং ইতিহাস ধ্বংস করা যাবে না।
বন বিভাগ কর্তৃক আবাদি জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির অধিকার আইনত সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মোহসিন হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আদিবাসীদের উত্থাপিত দাবি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। শুষ্ক মৌসুমে গড়গড়িয়া লেকে পানি থাকে না। তাই লেকটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সংস্কার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেকসহ গারো নেতৃবৃন্দ, বন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি নেই এবং উপস্থিত সবার সম্মতিতেই কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে পঁচিশ মাইল এলাকা এবং মধুপুর গড়াঞ্চলের আদিবাসী নারী ও পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এতে আদিবাসী ছাত্র সংগঠন, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ কৃষকরা সংহতি প্রকাশ করেন।
ভিওডি বাংলা/মোঃ লিটন সরকার/আ







