• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রমজানে ফলের দাম আকাশচুম্বী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৭ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে দাম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোজার আগের কয়েকদিনে যে ফল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল, সেগুলোর দাম চাহিদার প্রভাবে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত খেজুর, আঙুর, আপেল, আনারসহ বিভিন্ন ফলের দাম এখন আকাশচুম্বী।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দাম শুনে ক্রেতাদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। সকাল হওয়ায় বাজারে ভিড় কম থাকলেও যারা ফল কিনতে এসেছেন, তাদের অনেকেরই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে গেছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর, যার প্রতি কেজির দাম ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা। এ ছাড়া মরিয়ম খেজুর ১,২০০-১,২৫০ টাকা, কালমী খেজুর ৮০০-৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং মিনিফী খেজুর ৬০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের পরেই দামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আনার; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬২০ টাকায়।

আঙুরের বাজারও ক্রেতাদের জন্য কষ্টকর। কালো আঙুর প্রতি কেজি ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ফলের মধ্যে গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা, আর কমলা ৩৬০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে কম দামের দেশি ফলের দিকেও ক্রেতাদের কষ্ট পড়ছে। পেঁপে ১৬০-১৮০ টাকা, বরই ১২০-১৬০ টাকা, পেয়ারা ও বেল ১২০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজান উপলক্ষে দেশি ফলের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। কলা ক্রেতাদের নাগালে থাকা সত্ত্বেও ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০-১৮০ টাকা, চম্পা কলা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা রমজানে চাহিদা বাড়া মাত্রায় অতিরিক্ত লাভ করছেন। শাহনাজ পারভিন নামের এক ক্রেতা বলেন, “এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছিলাম ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজার মাসে সবসময় ব্যবসায়ীরা এমন করে।” অন্য এক ক্রেতা আশিকুর রহমান বলেন, “মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য খুব কষ্টকর।”

দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কিনেন। “পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমনই বিক্রি করি। অনেক সময় ফল নষ্ট হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়,” তিনি বলেন।

অন্য বিক্রেতারা জানালেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাই মূলত খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ। “একেক দিন একেক দামে ফল থাকে, মানুষের সঙ্গে আমরা ঠকাই না। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হয়,” তারা বলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজান মাসে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম ওঠানামা করে। তবে ক্রেতাদের বোঝাপড়া ও বাজার তদারকি থাকলে অতি মুনাফা নেওয়া কমানো সম্ভব।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈদেশিক চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন জরুরি: দেবপ্রিয়
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈদেশিক চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন জরুরি: দেবপ্রিয়
বেগুনের দাম দ্বিগুন, লেবু এবারও হয়নি কাবু
রোজার বাজার চড়া : বেগুনের দাম দ্বিগুন, লেবু এবারও হয়নি কাবু
রমজানের প্রথম দিনেই হু হু করে বাড়লো পেঁয়াজের দাম
রমজানের প্রথম দিনেই হু হু করে বাড়লো পেঁয়াজের দাম