যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৪৫

চলমান যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের ‘মার্টির্স অ্যান্ড ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ফাউন্ডেশন’।
যুদ্ধের পঞ্চম দিনে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা কাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও আশপাশের অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।
ভোরের দিকে বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভাঙে তেহরানের বাসিন্দাদের। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়। কুমসহ আরও কয়েকটি শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বুধবার তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তেহরানে একটি ইরানি ইরাক-১৩০ ফাইটার জেট ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। জেরুজালেমের আশপাশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণে নিহত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকসভা স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের একটি নৌ ফ্রিগেট ডুবে গেছে। ‘ইরিস ডেনা’ নামের ওই জাহাজ থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হলেও বহু হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। জাহাজটি ভারী কামান, সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, টরপেডো এবং একটি হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম ছিল বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন বাহিনী এর আগে ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং তাদের লক্ষ্য “সারাদেশের নৌবাহিনী ধ্বংস করা” বলে জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার চলাচলে বাধার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং জুলাই ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কর্পোরেট আয়ে চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ইরান আঞ্চলিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাশ তানুরা তেল শোধনাগার আবার লক্ষ্যবস্তু হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেনি।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনসুলেটেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের দেশত্যাগের অনুমতি দিয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরান এ পর্যন্ত ৫০০-র বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,০০০ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ২,০০০ লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ করেছি, ২,০০০-এরও বেশি মিউনিশন ব্যবহার করেছি। আমরা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও ড্রোন ধ্বংস করেছি।”
সূত্র: আল জাজিরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







