ঢাকা-৬ আসন
নির্বাচনের আগে হঠাৎ বাড়ল ভোটার, ভোটের পরই ‘উধাও’

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা ৬ এ ভোটার স্থানান্তর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার এই আসনে যুক্ত করা হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তাদের একটি বড় অংশ আবার অন্যত্র চলে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ নির্বাচন শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনেককে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে অনেক অপরিচিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাদের অনেককে আর এলাকায় দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক নতুন লোককে এলাকায় আসতে দেখেছি। তাদের অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। কিন্তু ভোটের পরে তাদের আর দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জানান, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের নিউজ আমরা দেখেছি। কিন্তু ভোটের দিন অনেকের দেখেছি যাদের চিনি না জানিনা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে ভোট দিতে । তাদের কখনও আমাদের এলাকায় দেখি নাই । ভোটার ২/৩ দিন আগে থেকে দেখি । অনেকের আবার ভোটার দিন দেখেছি।কিন্তু ভোটের পরদিন থেকে তাদের আর দেখি না তারা কারা? কোথা থেকে এসেছিল? তাও জানা নাই কারো।
ওয়ারী এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন,আমরা যারা বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করছি, তাদের অনেক সময় ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন করতে সমস্যা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে নতুন অনেক মানুষ ভোটার হয়ে যায় এটা আমাদের কাছে প্রশ্ন।
গেন্ডারিয়ার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোটের সময় কিছু লোককে এলাকায় এনে রাখা হয়েছিল বলে শুনেছি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদের বেশিরভাগই চলে গেছে।
আরেকজন স্থানীয় তরুণ বলেন, এখানে অনেক নতুন ভোটার যোগ হয়েছে বলে সবাই আলোচনা করছিল। এখন দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকেই আবার অন্য জায়গায় চলে গেছে।
ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন গতকাল শুক্রবার নিজের ভেরিফাই ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন। তিনি তার পোস্টে লিখেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর ঢাকা-৬ আসনে বিপুল পরিমাণে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্বাচনের এক মাসও পার হওয়ার আগেই বহিরাগত এই ভোটারদের একটি অংশ ইতিমধ্যে এই আসন থেকে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা এ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আছি। ঢাকাকে টার্গেট করে জামাত তাদের সরকার (ইউনুস সরকার) গঠনের কিছুদিন পরেই এই কাজটি শুরু করেছিল। তথ্য ও প্রমাণ সঠিকভাবে যাচাই করে দলের কাছে রিপোর্ট দেয়া হবে এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তারা মনে করেন, যদি সত্যিই বহিরাগত ভোটার স্থানান্তর হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, ঢাকা-৬ আসনে ভোটার স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। তারা মনে করেন, স্বচ্ছ তদন্ত হলে ভবিষ্যতে এমন বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/আ







