• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাজশাহীর দর্জিপাড়ায় ঈদ আনন্দ

রাজশাহী প্রতিনিধি    ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ পি.এম.
রাজশাহীর দর্জিপাড়ায় ঈদ আনন্দ। ছবি: ভিওডি বাংলা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীর দর্জিপাড়ায় এখন তীব্র ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই অর্ডার নেওয়া শুরু হলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেলাই মেশিনের শব্দ, কোথাও কোথাও সেহেরি পর্যন্ত কারিগররা ব্যস্ত থাকছেন।

শুধু মহানগরী নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বাজারের ছোট-বড় টেইলার্স দোকানগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন কাপড় হাতে নিয়ে মাপ নিতে আসছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে বয়স্করাও। অনেকেই সময়মতো পোশাক ডেলিভারি পাবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তবে দর্জিরা বলছেন, অর্ডারের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ করলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় টেইলার্স মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, এবার থ্রি-পিস, গাউন, কুর্তি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া, শেরওয়ানি ও শিশুদের পোশাকের অর্ডার বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কাস্টমাইজড ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে গ্রাহকরা অর্ডার দিচ্ছেন, ফলে একটি পোশাক তৈরি করতে সময়ও আগের তুলনায় বেশি লাগছে।

দর্জিরা জানান, আগে একটি সাধারণ সালোয়ার-কামিজ তৈরি করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন নকশা, লেইস, হাতের কাজ ও ফিনিশিং মিলিয়ে সময় প্রায় দ্বিগুণ। রানীবাজারের একজন দর্জি বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে এ পেশায় রয়েছি। প্রতি বছরই ঈদের আগে চাপ থাকে, তবে এবার অর্ডারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।’

নিউ রিডেন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আমাদের ব্যস্ততা প্রতিবছরই থাকে। ১০ রমজানের পর থেকেই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করেছি। এখন হাতে থাকা অর্ডারগুলো সময়মতো ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বাজারে দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে পোশাকের সচেতনতা বেড়েছে। রেডিমেড পোশাকের পাশাপাশি মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক পোশাকের জন্য এখনও অনেকেই দর্জির ওপর নির্ভর করছেন। তবে কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক টেইলার্স মালিক ইতোমধ্যে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ সীমিত পরিসরে পুরনো গ্রাহকদের অর্ডার নিচ্ছেন।

কারিগররা জানিয়েছেন, রোজা রেখে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। রাত জেগে কাজ করা সহজ নয়, তবুও গ্রাহকের সন্তুষ্টির জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মালিকদেরও কর্মচারীদের অতিরিক্ত বেতন ও ওভারটাইম দিতে হচ্ছে।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, গত বছরের তুলনায় সেলাই খরচ বেড়েছে। আগে একটি থ্রি-পিস সেলাইতে ৮০০–১০০০ টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ১২০০–১৮০০ টাকা। পাঞ্জাবি ও পায়জামার ক্ষেত্রেও একই চিত্র।

দর্জিরা বলছেন, কাপড়, সুতা, বোতাম, লেইসসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিল ও দোকান ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে সেলাই চার্জ বাড়াতে হচ্ছে।

রাজশাহীতে কয়েকশ’ ছোট-বড় টেইলার্স দোকান রয়েছে। ঈদের মৌসুমে এসব দোকানে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকরা অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন—কাটিং মাস্টারের সহকারী, বোতাম লাগানো বা ফিনিশিংয়ের কাজে। এতে তাদেরও বাড়তি আয় হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দর্জিপাড়া ও কাপড়ের বাজারে এক ধরনের মৌসুমি অর্থনৈতিক গতি সৃষ্টি হয়। কাপড়ের দোকান, লেইস-ফিতা বিক্রেতা, বোতাম ও এক্সেসরিজ ব্যবসায়ীদের বিক্রি বৃদ্ধি পায়। অনেক দোকানির দাবি, ঈদের আগে শেষ ১০ দিনে তাদের মাসিক বিক্রির অর্ধেকের বেশি হয়।

মর্ডান মনিকা লেডিস টেইলার্সের পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদে সবার নতুন পোশাক প্রয়োজন। এই সময় কাজের চাপ বেড়ে যায়। আমরা চেষ্টা করি ভালো কাজ দিয়ে গ্রাহক সন্তুষ্ট করতে। ঈদের আগে সব অর্ডার সম্পন্ন করার আশা করছি।’

ভিওডি বাংলা/রমজান আলী/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছাড়া পেলেন কুমিল্লার সেই বিএনপি নেতা
ছাড়া পেলেন কুমিল্লার সেই বিএনপি নেতা
ময়মনসিংহে সড়কে ঝরল ৩ প্রাণ
ময়মনসিংহে সড়কে ঝরল ৩ প্রাণ
মুন্সীগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার