আইআরজিসির হুঁশিয়ারি
‘পারস্য উপসাগরে ঢোকার সাহস নেই যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধ শেষের পথ খুঁজছে তারা’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার অধিকাংশ প্রায় এক দশক আগে তৈরি করা হয়েছিল। আরও আধুনিক ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ব্যবহার করা হয়নি। আইআরজিসি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ঢুকার সাহস নেই এবং তারা যুদ্ধ সমাপ্তির উপায় খুঁজছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট’ লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩,৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪।
তিনি বলেন, “বর্তমানে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো প্রায় এক দশক আগের। গত ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে রমজানের যুদ্ধ পর্যন্ত যে অনেক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে, সেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি।”
নাঈনি আরও সতর্কবার্তা দেন ওয়াশিংটনের উদ্দেশে। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের কাছে আসার সাহস পাচ্ছে না এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ দাবি করে যে তারা আমাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে, তাহলে তারা সাহস করে তাদের যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে নিয়ে আসুক।”
মুখপাত্র দাবি করেন, আইআরজিসি নৌবাহিনী ও ইরানের সেনাবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরের শেষ প্রান্তে ৩০০ থেকে ৪০০ মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং মেরামতের জন্য তারা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের রাডার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ডিপো এবং যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
নাঈনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলে দেশটি ভেঙে পড়বে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছিল। তবে বাস্তবে তা হয়নি। তার ভাষ্য, “১৫ দিন পর দেখা যাচ্ছে শত্রুপক্ষই এখন সন্দেহ, হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।”
আইআরজিসির মুখপাত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কার্যত তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে এবং ইরানের সঙ্গে কীভাবে সমঝোতায় এসে যুদ্ধ শেষ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে প্রস্তুত। কিন্তু এখন যুদ্ধের নেপথ্যের শক্তিগুলোর মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে।
নাঈনি আরও বলেন, ইরান আক্রমণকারীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে এবং শত্রুপক্ষ যখন ইরানের সামরিক ও সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা মেনে নেবে, তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ভিওডি বাংলা/এমএস







