• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কমেছে যাত্রীর ভিড়, স্বস্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ এ.এম.
ঈদযাত্রা: কমলাপুরে যাত্রীর চাপ নেই-ছবি-ভিওডি বাংলা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কয়েকদিনের টানা ভিড়ের পর রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে স্টেশনজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। গত চার দিনের তুলনায় এদিন প্লাটফর্মগুলোতে ভিড় ছিল অনেক কম, ট্রেন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন।

ঈদ উপলক্ষে গত সোমবার রাত থেকেই স্টেশনটিতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্রতিটি প্লাটফর্ম ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। ট্রেনের ভেতরের আসন তো বটেই, অনেক যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতেও দেখা গেছে। তবে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে আজ। এখন স্টেশন এলাকায় ভিড় কমে আসায় যাত্রীরা অনেকটাই স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছেন।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় এবং নির্ধারিত সময়ের বিলম্বের কারণে এদিন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ট্রেনগুলো সময়মতো চলাচল করছে এবং সেগুলোতেও আসন খালি থাকতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত ২৯ রমজানকে কেন্দ্র করে ঈদযাত্রার সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি হয়। কারণ ঈদুল ফিতর কখনো ২৯ রোজা শেষে, আবার কখনো ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার পর উদযাপিত হয়। এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রী আগেভাগেই ২৯ রমজানের হিসাব ধরে যাত্রার পরিকল্পনা করেন। এছাড়া ওই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়ির পথে রওনা হন। ফলে ওই সময়েই যাত্রীর চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তবে ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হলে এবং ঈদের তারিখ একদিন পিছিয়ে গেলে যাত্রীদের একটি বড় অংশ আগেই যাত্রা সম্পন্ন করেন। ফলে পরবর্তী দিনগুলোতে স্টেশনে ভিড় কিছুটা কমে আসে, যা আজকের পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই স্টেশনে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করে ধাপে ধাপে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল, ফলে বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি।

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী শফিকুল ইসলাম জানান, শুরুতে গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু ৩০ রোজা পূর্ণ হচ্ছে, তাই ভাবলাম বাড়ি যাই। আজ ট্রেনে এসে দেখলাম আসন খালি আছে, ভোগান্তিও কম হবে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক যাত্রী রিপন আহমেদ। তিনি বলেন, “সাধারণত চাঁদরাতে বাড়ি যাই। কিন্তু গতরাতে চাঁদ দেখা যায়নি, তাই আজ সকালে রওনা হয়েছি। ট্রেনে ভিড় কম, আসনও ফাঁকা-যাত্রা আরামদায়ক লাগছে।”

জামালপুরগামী যাত্রী আহসান হাবিবও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যানজট ও অফিসের ব্যস্ততার কারণে এবার গ্রামে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পরে অনলাইনে দেখে জানতে পারেন যে অনেক ট্রেনে আসন ফাঁকা রয়েছে। এরপর তিনি পরিবারসহ বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা চীন সফরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল