ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ সামরিক বিমান ক্ষতি

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ১৬টি সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শত্রুপক্ষের হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১০টি রিপার আক্রমণাত্মক চালকবিহীন উড়োজাহাজ এবং হামলা বা দুর্ঘটনায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ছয়টি বিমান। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কুয়েতে। সেখানে নিজেদের গুলিতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। একই সময় জ্বালানি ভরার সময় একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। এ ঘটনায় ট্যাংকারটির ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মূলত চালকবিহীন রিপার উড়োজাহাজই ভূপাতিত হয়েছে।
এর মধ্যে অন্তত নয়টি আকাশেই ধ্বংস হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, জর্দানের একটি বিমানঘাঁটিতে একটি ড্রোন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। আরও দুটি রিপার দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে। এসব ড্রোন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য তৈরি, কারণ এতে কোনো পাইলট থাকে না এবং চালকসহ বিমানের তুলনায় এগুলো পরিচালনা ব্যয় কম।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ইরানে অভিযান শেষে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলট সুস্থ আছেন। তবে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন।
গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এ ধরনের প্রতিটি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রায় এক দশক আগে চালুর পর থেকে এসব যুদ্ধবিমান বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহৃত হলেও শত্রুপক্ষের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা আগে প্রকাশ পায়নি।
ইরান ইনফ্রারেড-নির্দেশিত ৩৫৮ ধরনের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যা ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে রাডার না থাকায় লক্ষ্যবস্তু আগে থেকে সতর্কবার্তা পায় না। গত বছর ইয়েমেনে পরিচালিত অভিযানে এই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযানের ব্যাপকতার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।
উল্লেখ্য, চলমান অভিযানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন কেসি-১৩৫ দুর্ঘটনায় এবং সাতজন ইরানি হামলায় প্রাণ হারান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
ভিওডি বাংলা/আ







