টপ নিউজ
অতঃপর কারা অন্ধকারে শেষ হলো সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাটের ভয়ংকর খুনের গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ পি.এম.

কারাগারে থাকা সাভারের আলোচিত সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারের অন্ধকারেই অবশেষে শেষ হলো পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরের অন্ধকারে নিয়ে নির্মমভাবে খুনের পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাটের ভংংকর খুনের গল্পগুলো।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধহেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে, জানান চিকিৎসক।
সাভারের বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবন ছিলো তার আস্তানা। সুসম্পর্ক তৈরি করে কৌশলে পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে খুনের পর পুড়িয়ে দিতো লাশ। তিনজন নারী ও তিনজন যুবককে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ভয়ংকর অন্ধকার জগতের খুনের গল্প ইতোমধ্যেই উদঘাটন হয়েছে পুলিশের তদন্তে। উদঘাটন হেয়েছে ভবঘুরে বেশে ঘুরে বেড়ানো জীবনের আড়ালে লুকিয়ে রাখা এক অন্ধকার জগত আর ভবঘুরে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা পরিত্যক্ত ভবনে একাধিক ভয়ংকর খুনের গল্প।
গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরে সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের দোতলা থেকে দুটি লাশ উদ্ধারের নেপথ্যে সাইকো সম্রাটের সম্পৃক্ততার পায় পুলিশ। পরে এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি মরদেহ এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় হত্যার ধরন এবং নতুন করে পাওয়া দুটি মৃরদেহের খুনের ধরণে মিল পেয়ে পুলিশ এই ক্লু নিয়ে এগোতে থাকে।
একপর্যায়ে সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ ভিডিওচিত্রে মরদেহ কাধে নিয়ে পরিত্যক্ত দোতলা ভবন থেকে সাইকো সম্রাটের নিচতলায় নামার দৃশ্য সনাক্ত করে। যা সম্রাটের ভয়ংকর অধ্যায়কে পুলিশের সামনে আনে।
এ সময় গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই জীবনের ইতি ঘটলো সাইকো সম্রাটের।
যেভাবে উঠে আসে খুনি পরিচয়: একটি ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত ভবনে দেখা যায়; পরে নিশ্চিত হয়, সেই নারীকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেয় সম্রাট। তদন্তে নেমে পুলিশ তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরদিন ১৯ জানুয়ারি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তা গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠায়।
জানা যায়, সাইকো সম্রাট নামে পরিচিত এই ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোছামান্দা গ্রামে। বাবার নাম পান্না শেখ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, ২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নে প্রথম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধজগতে তার প্রবেশ। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে চার্জশিটভুক্ত হলেও পরে জামিনে বের হয়ে ২০১৯ সালে তিন মাসের মধ্যে দুইবার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয় এবং পুনরায় জামিনে এসে এরপর ভবঘুরে জীবনযাপন করতে করতে সাভার পৌর এলাকায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি হত্যা ও দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা, ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা, ১১ অক্টোবর একই স্থানে আরেক নারীকে হত্যা, ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবককে হত্যা এবং ১৭ জানুয়ারি গভীর রাতে এক নারীসহ দুইজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে সে।
এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল তানিয়া আক্তারের ঘটনা। রিত্যক্ত ভবনের নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই মরদেহ প্রথমে ছিল অজ্ঞাত।
তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট কাঁধে করে এক নারীর নিথর দেহ দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছে এবং আগুনে পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই সাখাওয়াত ইমতিয়াজ, এসআই ফাইজুর খান এবং পুলিশ সদস্য মনির হোসেনের সহায়তায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯ জানুয়ারি রাতে পরিবার সাভার মডেল থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করে এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জন্মদাগ দেখে নিশ্চিত হয় এটি তানিয়া।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে তিনটায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ হেলাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধহেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে, জানান চিকিৎসক।
সাভারের বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবন ছিলো তার আস্তানা। সুসম্পর্ক তৈরি করে কৌশলে পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে খুনের পর পুড়িয়ে দিতো লাশ। তিনজন নারী ও তিনজন যুবককে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ভয়ংকর অন্ধকার জগতের খুনের গল্প ইতোমধ্যেই উদঘাটন হয়েছে পুলিশের তদন্তে। উদঘাটন হেয়েছে ভবঘুরে বেশে ঘুরে বেড়ানো জীবনের আড়ালে লুকিয়ে রাখা এক অন্ধকার জগত আর ভবঘুরে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা পরিত্যক্ত ভবনে একাধিক ভয়ংকর খুনের গল্প।
গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরে সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের দোতলা থেকে দুটি লাশ উদ্ধারের নেপথ্যে সাইকো সম্রাটের সম্পৃক্ততার পায় পুলিশ। পরে এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি মরদেহ এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় হত্যার ধরন এবং নতুন করে পাওয়া দুটি মৃরদেহের খুনের ধরণে মিল পেয়ে পুলিশ এই ক্লু নিয়ে এগোতে থাকে।
একপর্যায়ে সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ ভিডিওচিত্রে মরদেহ কাধে নিয়ে পরিত্যক্ত দোতলা ভবন থেকে সাইকো সম্রাটের নিচতলায় নামার দৃশ্য সনাক্ত করে। যা সম্রাটের ভয়ংকর অধ্যায়কে পুলিশের সামনে আনে।
এ সময় গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই জীবনের ইতি ঘটলো সাইকো সম্রাটের।
যেভাবে উঠে আসে খুনি পরিচয়: একটি ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত ভবনে দেখা যায়; পরে নিশ্চিত হয়, সেই নারীকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেয় সম্রাট। তদন্তে নেমে পুলিশ তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরদিন ১৯ জানুয়ারি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তা গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠায়।
জানা যায়, সাইকো সম্রাট নামে পরিচিত এই ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোছামান্দা গ্রামে। বাবার নাম পান্না শেখ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, ২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নে প্রথম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধজগতে তার প্রবেশ। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে চার্জশিটভুক্ত হলেও পরে জামিনে বের হয়ে ২০১৯ সালে তিন মাসের মধ্যে দুইবার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয় এবং পুনরায় জামিনে এসে এরপর ভবঘুরে জীবনযাপন করতে করতে সাভার পৌর এলাকায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি হত্যা ও দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা, ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা, ১১ অক্টোবর একই স্থানে আরেক নারীকে হত্যা, ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবককে হত্যা এবং ১৭ জানুয়ারি গভীর রাতে এক নারীসহ দুইজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে সে।
এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল তানিয়া আক্তারের ঘটনা। রিত্যক্ত ভবনের নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই মরদেহ প্রথমে ছিল অজ্ঞাত।
তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট কাঁধে করে এক নারীর নিথর দেহ দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছে এবং আগুনে পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই সাখাওয়াত ইমতিয়াজ, এসআই ফাইজুর খান এবং পুলিশ সদস্য মনির হোসেনের সহায়তায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯ জানুয়ারি রাতে পরিবার সাভার মডেল থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করে এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জন্মদাগ দেখে নিশ্চিত হয় এটি তানিয়া।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে তিনটায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ হেলাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।







