বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু:
দায়িত্বে অবহেলার কথা অকপটে স্বীকার করলো গেটম্যান হেলাল

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রেন আসার নির্ধারিত সময়ে রেলক্রসিংয়ে গেটবার না ফেলা সেই গেটম্যান হেলালকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার মো. নাঈম উল হক।
তিনি বলেন, এই গেটম্যান রেলক্রসিং গেট বন্ধ না করায় দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। হেলাল জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে ১২ জন মৃত্যুর জন্য নিজের দায় এবং দায়িত্বে অবহেলার কথা অকপটে স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়ে। তিনি পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে অবস্থিত ই/৪৭ নম্বর রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান ছিলেন। এ মামলার ২ নম্বর আসামি মো. মেহেদী (৩৩) হাসান পলাতক। তিনি এই রেলক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হেলালের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে। বাবার নাম মো. নুরুল ইসলাম। পলাতক অপর আসামি মেহেদীর বাড়ি একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকায়। বাবার নাম মো. আবদুল কাদের।
গত শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
ট্রেনটি বাসটিকে ইঞ্জিনের মুখে ঠেলে প্রায় ৭০০ মিটার দূরের দৈয়ারা নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে থামে। এ ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। আহত হন বাসের চালকসহ অন্তত ১৫ জন। হতাহত ব্যক্তির সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, হেলাল ও মেহেদীর দায়িত্বহীনতার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত সোমবার কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন শেফালী আক্তার (৫৮) নামে এক নারী। তিনি এই দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। মামলায় হেলাল, মেহেদী ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর







