পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসে কুমারখালীর যাত্রীদের পরিচয় মিলেছে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে চালক হেল্পারসসহ অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিল বাসটি। বাসটি আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে শিশুসহ ৮জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
কুমারখালী থেকে বাসে উঠা যাত্রীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন - গিয়াস উদ্দিন রিপন(৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩) গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামায়। শ্বশুর বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।
বাকীরা হলেন - মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। এই দুইটি পরিবারের মধ্যে আয়েশা, আরশান ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
জানতে চাইলে মুঠোফোনে নুরুজ্জামান বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া আসা করি। ছুটি এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যায়। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।'
ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিকে ডুবে পগে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনও পাইনি।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ। তিনি বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়ার ৪ জন, পাংশার ১৫জন, চালক, হেল্পারসহ মোট ৫০ জন ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ৪০ সিটের বাসে মোট ৫০ জন ছিল। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে নেমে গেছে। যাত্রীদের কারো পরিচয় জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ফারজানা বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। ৮জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।
ভিওডি বাংলা/মোশারফ হোসেন/আ







