অনিয়মে জড়িত আইন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : অ্যাটর্নি জেনারেল

নোট বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আইন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার (২৯ মার্চ) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখানে আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবো। আমরা এখানে কোনো অবৈধ কাজ করছি না। রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছি। ইতঃপূর্বে এই নোট বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পছন্দমতো বেছে বেছে ব্যবস্থা নেয়ার অভিযোগ আছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনেরও অভিযোগ আছে। আমরা কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছি। আমার নিয়োগের পর থেকেই আমি এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি। তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি।
এদিন, বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল। এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির আদর্শ ধারণ করলেও দায়িত্ব পালনে দলীয় বিষয় বিবেচনা করা হবে না। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে আমি কাজ করব। আমার নিরপেক্ষ আদর্শের জায়গায় আমি অটল থাকব। ফলে কোনো তদবির বা দুর্নীতিকে আমি সুযোগ দেবো না।
তিনি বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু অপতথ্য বা এআইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রবাহ বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলব। বিশ্বাস করি, তিনি আমার অনুরোধ বিবেচনা করবেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেন কারো বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়। এছাড়া তরুণ আইনজীবীদের যত দ্রুত বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরণেও সাহায্য করতে চাই।
উচ্চ আদালতে মামলাজট নিরসনে ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এক্ষেত্রে তিনি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে পৃথক একটি বেঞ্চ গঠনের পক্ষে মতামত দেন। উচ্চ আদালতে মামলাজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় এবং মামলাগুলো নিষ্পত্তি করেন বিচারক। বর্তমান প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগে অনেক পুরোনো পরে থাকা মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। একটা হিসাব ছিল যে আপিল বিভাগে সাড়ে ৪ হাজার পুরোনো মামলা আছে। কিন্তু এসব মামলা হাইকোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলা (আপিল বিভাগে) নিষ্পত্তির সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলাম, এই মামলাগুলো আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এই মামলার চূড়ান্ত রুল শুনানি হাইকোর্টে করতে হবে।
আমি উনাকে (প্রধান বিচারপতি) বলেছিলাম, এই মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে যদি একটি পৃথক বেঞ্চ করে দেন তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। অনেক মামলার বিষয়বস্তু অলরেডি (কার্যকর) এখন নেই। তিনি বলেছিলেন, এটি ভালো প্রস্তাব। প্রধানমন্ত্রী যদি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমার মতামত চান আমি কিছু মতামত দেব এবং মামলাজট হ্রাস করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখব।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







