• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হরমুজে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান সেখানে মাইন পেতে রেখেছে—এমন তথ্য সামনে আসার পর সেগুলো শনাক্ত ও ধ্বংসে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে লন্ডন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি দেশটির গণমাধ্যম সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, যেগুলোতে করে এসব আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হবে। এ অভিযানে যুক্তরাজ্যকে সহায়তা করছে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স।

এই মিশনের জন্য নির্ধারিত জাহাজটির নাম ‘আরএফএ লিমে বে’, যার দৈর্ঘ্য ৫৮০ ফুট। এটি মূলত একটি রসদবাহী জাহাজ, যা সাধারণত অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে এটিকে ড্রোন বহন ও পরিচালনার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালীতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সম্পন্ন। শক্তিশালী সেন্সরের মাধ্যমে এগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ ও তলদেশে থাকা মাইন শনাক্ত করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।

জন হ্যালি আরও জানান, ‘আরএফএ লিমে বে’-এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হচ্ছে। এসবের মূল লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে। এ কারণে একে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুট দিয়েই তাদের রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

এরই মধ্যে গত এক মাসে হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক পরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত এক ডজনের বেশি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকে বসছে ৪ দেশ
যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকে বসছে ৪ দেশ
মার্কিন তালিকা: সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ১০ বাংলাদেশি অপরাধী কারা?
মার্কিন তালিকা: সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ১০ বাংলাদেশি অপরাধী কারা?
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর এবার জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর এবার জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার