জাল ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসায় বিদেশ যাচ্ছে শ্রমিক, অর্থ হাতাচ্ছে দুই প্রতারক

বিদেশে পাঠানোর নামে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি আন্তর্জাতিক জালিয়াতিতে জড়িত বলে তথ্য রয়েছে। তারা বিএমইটি’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও বসনিয়া পাঠানোর নামে বিশেষ সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে হাতাচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। তাদের খপ্পড়ে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ভিটেমাটি বিক্রি করে দু’চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো সহজ-সরল শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ।
সম্প্রতি ইউরোপের সার্বিয়া, বসনিয়া, রোমানিয়াসহ কয়েকটি দেশের পুলিশ জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রের অন্তত এক ডজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের দুজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও একজনের বাড়ি সিলেটে। বিষয়টি নিয়ে দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকেও আলোচনা হয়।
এ চক্র গ্রেপ্তারের পর মূল হোতা হিসেবে বেরিয়ে আসে মিনহাজ (৩০) নামে এক ব্যক্তির নাম, যিনি পোল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই নাড়াচ্ছেন কলকাঠি। জালিয়াতির পেছনে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার লহ্মীপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে সাঈদ আহমেদ, যিনি দুবাই অবস্থান করছেন। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতারণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যেই তারা তাদের গ্রাহক ধরতে বিদেশে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করতে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে বিদেশে শ্রমিক নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যাচ্ছে, লোভনীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে।
এই প্রতারক চক্র সুকৌশলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ফেনী শাখা ও লেমোয়া শাখায় হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খুলে সেখানে ভুক্তভোগীদের টাকা জমা দিতে বলে থাকে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। আর প্রতারণা ধরা পড়লেও চক্রের এ দুজন বেশিরভাগ সময় প্রবাসে অবস্থান করায় থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চক্রটির মাধ্যমে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও বসনিয়া দূতাবাসে ভিসার আবেদনে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিয়া, বসনিয়া, মেসিডোনিয়ায় নকল স্টিকার ভিসা বানিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে। ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসা আবেদনের ফলে পূর্ব ইউরোপের দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার দিনদিন হুমকির মুখে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশ সার্বিয়া ভিসা আবেদনে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে কয়েকটি দেশের দূতাবাস। ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে।
শ্রমিক ভিসায় বিদেশে যেতে ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা এবং শ্রমশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন হয়। তাই প্রতারকচক্র প্রথমে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট বানিয়ে ভিসার আবেদন করে থাকে। ভিসা আবেদন বাতিল হলে নিজেরা নকল স্টিকার ভিসা বানিয়ে পাসপোর্টে যুক্ত করে দেয়। এরপর বিএমইটির দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই জাল ভিসার বিপরীতে কর্মীর জন্য নেওয়া হয় বিএমইটি স্মার্ট কার্ড। সেই স্মার্ট কার্ডেই মেলে বিমানের টিকিট।
তা নিয়ে কর্মীরা রওনা হন ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে। তারা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আটকে গেলে বিমানবন্দরের সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় নকল ভিসা নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমান সহজ-সরল এসব খেটে খাওয়া মানুষ। আর বিদেশে গিয়ে তারা পড়েন বিপাকে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







