নতুন উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে
২৩ দেশে করোনা শনাক্ত, কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

হামের চাপে করোনার বিষয়টি মাথায়ই নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যসহ ২৩টি দেশে করোনার উচ্চমাত্রায় মিউটেশনযুক্ত ভ্যারিয়েন্ট বিএ.৩.২ ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ হয়। বিশ্বজুড়ে এই করোনা উদ্বেগের বিষয়ে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিচালক পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, হামের চাপে আর করোনার প্রকোপ দেশে না থাকায় এ বিষয়ে এ বছর তেমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা নিয়ে সম্প্রতি যে তৎপরতা শুরু করেছে, তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশও পূর্ণ প্রস্তুতি নেবে। এখনো দেশে করোনা আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। তাই আতঙ্কের কারণ নেই। এছাড়া বাংলাদেশ করোনার সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে জয়ী হয়েছে, তা বিশ্বে এখনো উদাহরণ। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্বের দক্ষতা এবং সরঞ্জাম রয়েছে করোনা মোকাবিলার। এ প্রস্তুতিতে তেমন বেগ পেতে হবে না।
এদিকে বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিএ.৩.২ ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সতর্ক নজর রাখছে জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি এখনো বড় হুমকি নয়, তবে অবহেলারও সুযোগ নেই।
এদিকে নতুন এ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। ভ্যারিয়েন্ট বিএ.৩.২ ‘সিকাডা’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভ্যারিয়েন্ট। এ কারণে বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। সৃষ্টি করেছে নতুন উদ্বেগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকাডার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্পাইক প্রোটিনে বিপুল সংখ্যক মিউটেশন। এই পরিবর্তন ভাইরাসটিকে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে কিছুটা ‘অপরিচিত’ করে তুলতে পারে। ফলে ভ্যাকসিন বা আগের সংক্রমণ থেকে পাওয়া সুরক্ষা আংশিকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও বাস্তবে এর প্রভাব এখনো সীমিত।
এদিকে আশার খবর হচ্ছে—এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এই ভ্যারিয়েন্ট আগেরগুলোর তুলনায় বেশি মারাত্মক।
২০২৫ সালের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে ‘পর্যবেক্ষণাধীন ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি অন্তত ২৩টি দেশে শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ২৫টি অঙ্গরাজ্যে বিএ.৩.২ শনাক্ত হয়েছে। তবে এখনো এটি প্রধান ভ্যারিয়েন্ট হয়ে ওঠেনি এবং বড় ধরনের সংক্রমণ ঢেউও সৃষ্টি করেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড ভাইরাসের মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতেই পারে। তবে বর্তমান ভ্যাকসিন এখনো গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে কার্যকর।
সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ: করোনার লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করা, অসুস্থ অবস্থায় ঘরে থাকা এবং ভিড়পূর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা।
বাংলাদেশে করোনা মহামারীর চিত্র: শুরু থেকে বর্তমান
বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ এবং এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মহামারীর পুরো সময়ে ২০২১ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ। বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে ওই বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন করে মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। এছাড়া দৈনিক সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২১ সালের ২৮ জুলাই (১৬,২৩০ জন)। দীর্ঘ তিন বছর পর ২০২৩ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা সমাপ্তির ঘোষণা দিলে বাংলাদেশেও এর প্রকোপ ও বিধিনিষেধ আনুষ্ঠানিকভাবে শিথিল হয়ে আসে। সরকারি সবশেষ হিসাবমতে (এপ্রিল ২০২৬), দেশে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৫২,২২১ জন, মোট মৃত্যু ২৯,৫৩১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২০,১৯,৪৬৩ জন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত সচেতনতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







