• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চলচ্চিত্র অধিদপ্তরে নির্মাতাদের ওপর হামলা, নিরাপত্তা-বিচারের দাবি

   ৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পি.এম.
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন । ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রের বকেয়া বিল চাইতে গিয়ে খোদ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মহাপরিচালকের কক্ষেই নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন নির্মাতারা। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বকেয়া বিল পরিশোধে অনিয়ম বন্ধ এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ‘কালচার অ্যান্ড ফিল্ম কালেক্টিভ’।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহীন ফারুক আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেলিন, মোশফিকুর রহমান এবং আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে নির্মাতারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে যান। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে চিত্রগ্রাহক পদে কর্মরত মো. মশিউর রহমান বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে থেকেই বকেয়া বিল প্রদানে নানা টালবাহানা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ডিএফপির মহাপরিচালকের সামনেই মশিউর রহমান নির্মাতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর তিনি পরিকল্পিতভাবে ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগতকে ডেকে এনে মহাপরিচালকের কক্ষেই নির্মাতাদের ওপর হামলা চালান।

হামলায় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ গোলাপ শাহ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া আবদুর রহমানের মুখ ও ঠোঁট ফেটে যায় এবং নাসিফ ফারুক আমিনের ডান কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হয়েছেন মোশফিকুর রহমান জোহানসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার পর রমনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে।

বক্তব্যে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. মশিউর রহমান অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের সহায়তায় কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছবি দেখে শনাক্ত হওয়া হামলার সহযোগী পাঁচজন হলেন– আতিকুর রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম দিদার, আসাদুল ইসলাম ও জীবন আহমেদ। দাবি করা হয়, তারা হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও রমনা থানায় মামলা রুজু হয়নি।

জাহীন ফারুক আমিন বলেন, এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; বরং জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস রক্ষায় কাজ করা নির্মাতাদের ওপর সুসংগঠিত আক্রমণ। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর চরম আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়
১. অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনা।
২. হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিখোঁজ সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা।
৩. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৪. আহতদের চিকিৎসা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
৬. সরকারি অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে সব ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করা।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কোরবানির ঈদে মুক্তির প্রস্তুতিতে নিরবের নতুন সিনেমা
কোরবানির ঈদে মুক্তির প্রস্তুতিতে নিরবের নতুন সিনেমা
গায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ অভিনেত্রীর
গায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ অভিনেত্রীর
বলিউড সিরিজে বাজিমাত শুভর, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়
বলিউড সিরিজে বাজিমাত শুভর, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়