আলোহার মেন্টাল অ্যারিথমেটিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো আলোহা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘১৮তম জাতীয় পর্যায়ের অ্যাবাকাস ও মেন্টাল অ্যারিথমেটিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তাদের মেধা ও গণিত দক্ষতার পরিচয় দেয়।
এবারের প্রতিযোগিতায় সারাদেশের প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটি মূলত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা মাত্র পাঁচ মিনিটে ৭০টি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।

২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হলো শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং গণিতভীতি দূর করা। আয়োজকরা জানান, অ্যাবাকাস ও মেন্টাল অ্যারিথমেটিকের মাধ্যমে শিশুদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহ মুন সাঙ, যিনি আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিরণ মাতওয়ানি, ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি এবং ড. মো. সবুর খান। এছাড়াও আলোহা কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে আলোহা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে কাজ করছি, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।” এসময় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. সাইদানি খুদে প্রতিযোগীদের অসাধারণ গতি ও নির্ভুলতার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক।
শেষ দিনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোহা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সাইফুল করিম এবং পরিচালক মো. শামসুদ্দিন টিপুসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রতিযোগিতায় সেরা পারফর্ম করা শিক্ষার্থীরা চলতি বছর পানামায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা আলোহা বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশে প্রতিষ্ঠানটির ১০০টিরও বেশি শাখায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভিওডি বাংলা/জা







