মানবিকতা, সমন্বয় ও বিকেন্দ্রীকরণেই টেকসই হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ধাত্রী-পরিচালিত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর) সেবার উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে মানবিকতা, সমন্বিত উদ্যোগ ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়—এটি মানুষের প্রতি অঙ্গীকার; তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা মিটিং রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, তিনি এই খাতে নতুন হলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করতে করতে বিষয়গুলো শিখে নেবেন। তিনি বলেন, আপনারা যে সেবা দিচ্ছেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা মানে শুধু দায়িত্ব পালন নয়—এটি একেবারেই মানবিক কাজ।
তিনি আরও বলেন, এই খাতে যারা কাজ করবেন তাদের মানবিকতা ও মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে, না হলে সেবার সফলতা আসবে না। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ না রেখে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। “শুধু আমি ভালো থাকব আর চারপাশ অন্ধকার থাকবে—এটা হতে পারে না। চারপাশ অন্ধকার হলে আমিও অন্ধকারে পড়ে যাব,”—বলেন প্রশাসক।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সবকিছু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দায়িত্ব বণ্টন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ, তাদের ওপর দায়িত্ব দিতে হবে এবং প্রশাসন তদারকি করবে।
আবদুস সালাম বলেন, কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবায় সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং রাজস্ব কমেছে। তবে সেবাগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালু রেখে রাজস্ব বাড়ানো গেলে সিটি করপোরেশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম টেকসই করতে পারবে। দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সিস্টেম শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসআরএইচআর কার্যক্রম বন্ধ হবে না এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
ভিওডি বাংলা/খতিব/আ







