বিমানের টয়লেটে ১৮ কেজি স্বর্ণ: পাইলট-ক্রু, যাত্রীদের তথ্য চায় পুলিশ

বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের টয়লেটে থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত শনাক্তে ওই ফ্লাইটের পাইলট থেকে শুরু করে ক্লিনার ও যাত্রীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। দিতে হবে সবার নাম-ঠিকানা, পদবিও। পাশাপাশি ফ্লাইটের ভেতর ও বাইরের সিসিটিভি ফুটেজও দিতে হবে। এসব চেয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে বিমানবন্দর থানা।
জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টায় দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে টয়লেট থেকে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়। এরপরই স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্ত করতে ফ্লাইটের সব তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম জানান, কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বিমানের কার্গো কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করল এবং কারা জড়িত তা উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থেই বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (সিইও) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়েছি, এখনও তথ্য, ভিডিও ফুটেজ পাইনি। পাশাপাশি বিমান ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সব তথ্য পেলে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহজ হবে।
চিঠিতে ফ্লাইটে দায়িত্বে থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুদের পূর্ণাঙ্গ নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বায়োডাটা; সংশ্লিষ্ট এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল মেকানিক ও হেলপারদের তথ্য; ক্লিনিং স্টাফদের পরিচয়; ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্মীদেরও বিবরণ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্লাইটের ভেতরের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, বোর্ডিং ব্রিজ ও রানওয়ে এলাকার ভিডিওসহ যাত্রী তালিকা চাওয়া হয়। প্রত্যেক যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বর্ণগুলো যেভাবে শৌচাগারের প্যানেলের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকানো ছিল, তা এককভাবে কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। এতে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্রের সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে ফ্লাইট ছাড়ার আগের সময়, উড্ডয়নকালীন পর্যায় কিংবা অবতরণের পর কোন সময়ে স্বর্ণগুলো বিমানে ঢোকানো হয়েছে, তা নির্ধারণই এখন তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







